ভূতের রাজা দিল বর…

Featured Video Play Icon

অনেকে বলেন যে এই দৃশ্যে হিন্দু বর্ণবিভেদের অথবা পুঁজিবাদী শ্রেণীসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আমার হিসাবে তা নয়। কারণ চারটি গোত্রের ভূত থাকলেও, তারা নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে পটল তুলছে, একে অন্যের সাথে নয়। বর্ণপ্রথারও কোন অর্থ হতে পারে না। ম্লেচ্ছ ফিরিঙ্গি বেনিয়াদের টেনেটুনে বৈশ্যের সারিতে ফেলার কোন মানে নেই। শ্রেণীসংগ্রাম হলে শোষণের চিহ্ন কোথায়? এদের সংঘাতটাও অসম শক্তির মনে হয় না।

বরং আমার মনে হয়, সত্যজিৎ যেটা দেখাতে চেষ্টা করেছেন সেটা একরকম অন্তর্দ্বন্দ্ব। সমশ্রেণীর, সমপরিচয়ের মানুষের — যারা জাতি, ধর্ম, পেশাগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থ, এধরনের কোনদিক দিয়ে আলাদা — তাদের কলহ। দ্রুত লয়ের সাথে সেই বাকবিতন্ডা তারা নিয়ে গেছে অন্তিম পর্যায়ে। ফলাফল, পরস্পরের হাতে নির্মম মৃত্যু!

ট্রেইল অফ টিয়ারস

Featured Video Play Icon

আমেরিকান ইন্ডিয়ান বা নেটিভ আমেরিকান নাম দিয়ে আমরা যাদের সবাইকে এক বাক্সে বন্দী করি, তাদের কিন্তু প্রায় ৫০০টি স্বতন্ত্র ট্রাইব আর তারা ৯টি আলাদা পরিবারের ৩০০টি ভাষায় কথা বলে। এদের ধর্মীয় বিশ্বাস আর সামাজিক রীতিনীতিও সেরকম বৈচিত্রময়। অ্যারিজ়োনার হোপিরা মাতৃতান্ত্রিক, ওকলাহোমার ওসেজরা পুরুষশাসিত। মিডওয়েস্টের প্রেইরি ইন্ডিয়ানরা ঐতিহ্যগতভাবে যাযাবর শিকারী গোত্র, আবার নিউমেক্সিকো-অ্যারিজ়োনার আনাসাজ়ি-পুয়েবলোরা কৃষিপ্রধান নগরসভ্যতা গড়ে তুলেছিল।

এ সকল জাতেরই পিতৃপুরুষ পূর্ব এশিয়া বা সাইবেরিয়ায় বাস করত। ত্রিশ হাজার বছর আগে — বরফযুগের শেষে — তারা শিকার তাড়া করতে করতে বরফাবৃত বেরিং প্রণালী অতিক্রম করে আলাস্কায় ঢুকে পড়ে। বরফ গলে যাবার পরে প্রশান্ত মহাসাগরের অকূল পাথার তাদেরকে এশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তারপর কয়েক হাজার বছরের মধ্যে তারা দক্ষিণ আমেরিকা আর ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। অন্যান্য বিশ্বসভ্যতা, বাণিজ্যপথ, আর সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান থেকে আলাদা হয়ে পড়ায় ১৪৯২এ ক্রিস্টোফার কলাম্বাস তাদেরকে পান প্রস্তরযুগীয়, বড়জোর ব্রোঞ্জ প্রযুক্তির পর্যায়ে।

তুর্কীনাচন

Featured Video Play Icon

এই ধরনের জ়িকর বা স্রষ্টার নামস্মরণ করাকে তুর্কী ভাষায় বলে সেমা, যেটার আরবী শব্দমূলের অর্থ শ্রবণ করা। প্রখ্যাত সুফী কবি জালালুদ্দিন রুমী ত্রয়োদশ শতকে মিস্টিসিজ়ম বা গূঢ়তাত্ত্বিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে সেমাসহ অন্যান্য সুফী ঐতিহ্যের সূচনা করেন, যেটা তুর্কী-ফার্সী-আরবী ভাষায় মৌলভী তরিকা বলে পরিচিত। মূলধারার অনেক মুসলিম মনীষীদের হিসাবে এগুলি ইসলামের বিপরীত নয়, নামাজ-রোজার প্রতিস্থাপকও নয়। রুমী কুরআন-হাদীসের বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, প্রকাশিত জানা নিয়মকানুন থেকে শুরু করার পরে ইসলামের আরেকটি গূঢ় অন্তর্মূলে যাওয়া সম্ভব, যেখানে সৃষ্টি আর স্রষ্টার মধ্যে সম্পর্ক প্রেমের। সেমার মত জ়িকর সুফী সাধককে সেই পর্যায়ে পৌঁছতে সাহায্য করে।

স্রষ্টার স্বর্গদুয়ার উন্মুক্ত…

Featured Video Play Icon

লঘুচিত্তে গাওয়া এই গানটার বিষয়বস্তু নির্ধনের প্রতি স্রষ্টার মমতার গুণগান। “যদি ন্যায়পরায়ণের দানের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তবে মনে রেখো স্রষ্টার স্বর্গদুয়ার সর্বদা উন্মুক্ত।” আর খোদার কাছে অনুনয় করা হচ্ছে তাকে ‘এল হা’ঈ’ নামে ডেকে, যেটা মুসলিমদের কাছেও স্রষ্টার নিরানব্বই নামের একটা। সপ্তদশ শতকে মধ্যমপন্থী সুন্নি ওসমানী তুর্কীদের সাহায্য করার সন্দেহে ইয়েমেনের জ়াইদী শিয়া বংশীয় ইমাম বা শাসক শাবাজ়ি আর তাঁর ইয়েমেনী ইহুদী গোত্রকে মাওজ়া বলে এক মরুএলাকায় নির্বাসনে পাঠায়। সেখানে তাদের এক-পঞ্চমাংশ খাদ্যাভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। স্বগোত্রকে সাহস আর আশা যোগানোর জন্যে শাবাজ়ির এ কাব্য রচনা।

স্বদেশে পরদেশী উইগুর

Featured Video Play Icon

ইউটিউবে উইগুর মিউজ়িক সন্ধান করলে অনেক নাচগান দেখবেন, এদের অধিকাংশই শো, বাইরের মানুষকে দেখানোর প্রচেষ্টা যে উইগুররা সুখেশান্তিতে নাচাগানা করে আছে। কামাল আতাতুর্ক একদিকে যেমন সুফী জিকির অবৈধ করেছিলেন, অন্যদিকে দরবেশদের সুফী ঘূর্ণিনৃত্য সমানে চলেছে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্যে — চীন সরকারের এ প্রয়াস তার থেকে আলাদা কিছু নয়, বরং আরো ভয়ানক কারণ এভাবে উইগুরদের জাতিগত পরিচয়টাকেই তারা ইনজিনিয়ার করে ফেলছে। সোভিয়েতরাও তাদের অনেক সংখ্যালঘু জনসত্ত্বাকে একইভাবে রিডিফাইন করেছিল।

মুসলিম দেশের সরকারগুলি ফিলিস্তিন নিয়ে গলা ফাটিয়ে ফেললেও উইগুরদের নিয়ে রহস্যজনকভাবে মৌন থাকে, সম্ভবত চীনের সাথে খাতিরের সম্পর্ক বজিয়ে চলার জন্যে। তুরস্কে অনেক উইগুর নির্বাসনে থাকলেও তুরস্কের সরকারও চুপচাপ, কথা বললেই কুর্দী-আরমেনিয়ানদের পুরনো কংকাল সিন্দুক থেকে বেরিয়ে নাচানাচি করবে। মার্কিন আর ইউরোপিয়ানরাই কিন্তু বছরের পর বছর তিব্বতী-উইগুরদের স্বাধিকারের পক্ষে নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। ২০০৮এ একটা গণসংগ্রামের প্রচেষ্টা হলেও ইন্টারনেটে ইনজিনিয়ারড গুজব ছেড়ে চীনারা টেরোরিজ়মের জুজু দেখিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেসময় বাইরে থেকে বিবৃতির বেশি সাহায্য আসেনি। তাই অনেক তরুণ উইগুর স্বাধিকার-সংস্কৃতি-মানবাধিকার ভুলে কষে ম্যান্ডারিন শিখছে। অতএব আপাতত সিপিসি সফল।

close

ব্লগটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন!