মোঙ্গোলদেরকে তাদের ‘সভ্য’ প্রতিবেশী রুশ-চীনারা বর্বর আখ্যায়িত করত। মধ্যযুগে চেঙ্গিস খান আর তাঁর বংশধররা যে পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আব্বাসী খিলাফ়তসহ তৎকালীন সভ্য জগতের অন্যান্য সাম্রাজ্যের যবনিকাপাত করেছিলেন, তার কারণে অনেক ইতিহাসেই মোঙ্গোলদের স্থান হয়েছে যুদ্ধকামী-রক্তপিয়াসু হিসাবে। কিন্তু ইতিহাসে তাদের গুরুত্ব বুঝতে দৃষ্টিকোণের খুব বেশি পরিবর্তন দরকার হয় না। সেকথায় আসছি, একটু পরে।
সাহারার তুয়ারেগ
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরোক্কো — এই দেশগুলিকে আমরা জানি আরব-অধ্যুষিত হিসাবে। কিন্তু এই এলাকার আদিবাসীরা আরব নয়, কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানও নয়। গ্রীক-রোমান-যুগ থেকে তাদেরকে ভিনদেশীরা চেনে ‘বেরবের’ নামে; যদিও তারা নিজেদের বলে ‘আমাজ়িগ’ — যার অর্থ মুক্ত মানুষ। এখন মূলত আরবী বা ফরাসীতে কথা বললেও উপরের দেশগুলির একটা বড় জনসংখ্যা বেরবের।
লাচো দ্রোমঃ যাত্রা হোক শুভ
জিপসিদের ইতিহাসটা অবশ্য এরকম আনন্দময় ছিল না। প্রায় এক হাজার বছর আগে তারা পশ্চিম ভারত থেকে ইউরোপের দিকে যাত্রা শুরু করে — অনেকের হিসাবে আমাদের দেশের বেদেরা এদেরই একটা অফশুট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিবাহিনী আর তাদের হাঙ্গেরীয়, রোমানিয়ান, স্লোভাক, ইউক্রেনীয় কট্টর জাতীয়তাবাদী দোসররা ইহুদিদের সাথে সাথে পূর্ব ইউরোপের রোমা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক জনগণকে এক্সটারমিনেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে হত্যা করে। পরে রোমানিয়ার কম্যুনিস্ট ডিক্টেটর চওসেস্কুর সময়েও এরা অনেক নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। স্পেইনের ফ্রাংকো সরকারও সেখানকার ফ্লামেংকো নৃত্যসঙ্গীতের পুরোধা হিতানো জিপসিদের ওপর অনেক অত্যাচার চালিয়েছে।


