ইরানে কুর্দীদের ওপর তুরস্কের মত অত্যাচার করা হয়নি এটা ঠিক। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ আসে নানা খোলসে। ইরানের ক্ষেত্রে সেটা সংখ্যাগুরু ভাষা ও সংস্কৃতি আর কেন্দ্রের জবরদস্তির প্রশাসন। ওদিকে এদের বিরুদ্ধে অসন্তোষের প্রকাশটাও যখন কুর্দী ভাষার মধ্য দিয়ে হচ্ছে, তখন ফার্সীতেও সেটা সংক্রমিত হতে সময় লাগেনি।
রাষ্ট্রবিহীন জাতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে কুর্দী বিচ্ছিন্নতাবাদের চরিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। উপজাতীয় চরিত্রের জায়গা নিতে শুরু করে জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থী আদর্শবাদের রাজনীতি। আর তাদের স্বপ্নপূরণের পথে আরও বেশি শক্ত অবস্থান নেয় উপনিবেশপরবর্তী আরব ও তুর্কী রাষ্ট্রগুলি।
আধুনিক জাতিরাষ্ট্র
একটি রাষ্ট্র কিভাবে রাষ্ট্র হিসাবে আবির্ভূত হয়? এটা আসলে একটা ক্লাবে ঢোকার মত। এক্সক্লুজিভ ক্লাব। চাইলেই আমি আপনি নিজেদের প্রাইভেটলি ওনড জায়গাজমি নিয়ে নতুন একটা স্বাধীন দেশ ঘোষণা করলাম, আর অন্যান্য সকল রাষ্ট্র আমাদের বাহবা দিয়ে তাদের ক্লাবে ঢুকিয়ে নেবে, এ এত সহজ নয়।
ভারতীয় ভক্তিবাদ – ৩
দরিদ্র তাঁতী পরিবারের কবির সেই নিষ্পেষিত শ্রেণীরই প্রতিনিধি। তিনি মুসলিম ছিলেন না হিন্দু, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাকে স্ব-স্ব ধর্মের সন্ত বানাতে হিন্দু-মুসলিম-শিখ সকলে এক পায়ে খাঁড়া। অথচ জীবদ্দশায় সম্ভবত তাকে হিন্দু-মুসলিম উভয়েরই গঞ্জনা সইতে হয়েছে।
ভারতীয় ভক্তিবাদ – ২
মীরাবাঈয়ের পাশাপাশি আরো বহু সন্ত-সাধক এ সময়ে ভক্তিবাদের চর্চা করেন। শিখ গুরু নানক একই সময়ের, একই ঘরানার। নবদ্বীপের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আর বৈষ্ণব পদাবলী বৈষ্ণবভক্তির বঙ্গীয় নমুনা। রাধা-কৃষ্ণের লীলা এদের জন্যে ঈশ্বরপ্রেম কিংবা আধ্যাত্মিকতার রূপক মাত্র। আবার গীতায় অর্জুন-শ্রীকৃষ্ণের যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, তার সমান্তরাল ধরতে পারি শামসে তাব্রিজি আর মাওলানা রূমির পীর-মুর্শিদ সম্পর্ক, কিংবা নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সাথে আমীর খসরুর সম্পর্ক। শুধু তফাত হল শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার।


