শ্মা ঈসরা’এল! আদোনাই এলোহেইনু, আদোনাই এহাদ।
শামা নামে ইহুদী প্রার্থনার হিব্রু থেকে আরবী ভাষান্তর করলে দাঁড়াবেঃ
ইসমা’ ইসরা’ঈল! রাব্বুনা হু’ইলাহিনা, রাব্বুনা আহাদ।
অর্থ “শোনো হে ইসরাইল! আমাদের খোদা আমাদের ঈশ্বর, আমাদের খোদা একক।”
তার সাথে তুলনা করুন সূরা ইখলাসঃ
কুল হু’ আল্লাহু আহাদ — বলুন, আল্লাহ তিনি একক।
আল্লাহু-স সামাদ। — আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ।
লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। — আল্লাহকে কেউ জন্মদান করেনি, তিনি কাউকে জন্ম দেননি।
ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু কুফুয়ান আহাদ। — আল্লাহর সাথে তুলনাযোগ্য কেউ নেই।


দুটি প্রার্থনার সারমর্ম এক। দুটোই তাওহীদ বা একত্বের দাবি প্রকাশ করছে। বিশেষত অন্য একটি আব্রাহামিক ধর্মের বিপরীতে। সেটা খ্রীষ্টান ধর্ম। বর্তমান যুগের খ্রীষ্টান ধর্মদর্শন অনুযায়ী খোদার তিনটি রূপ — গড দ্য ফাদার, গড দ্য সান (যীশুখ্রীষ্টের মাঝে যার আত্মপ্রকাশ), দ্য হোলি স্পিরিট — আরবীতে রুহূল কুদস, হিব্রুতে রুয়াহ হা’কোদেশ — কুরআনে এই ফ্রেজের বিপরীতে ফেরেশতা জিবরাঈলকে চিন্তা করা হয়। ওল্ড টেস্টামেন্টে খোদার প্রাণদায়ী নিঃশ্বাস। এগুলি প্রাচীন মিশরের কিছু বিশ্বাসের সম্ভাব্য বিবর্তন।
যাহোক, ইখলাস ও শামা দুটিরই অন্যতম লক্ষ্য নিজেদের বিশ্বাসকে খ্রীষ্টান দর্শন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা, আর স্ট্রিক্ট ইউনিটারিনেস অফ গড প্রকাশ করা।
যীশুখ্রীষ্টকে যেহেতু সান অফ গড বিশ্বাস করা শুরু হয়ে যায়, সে কারণে ইখলাসে আরো শক্ত করে বলতে হল “আল্লাহকে কেউ জন্মদান করেনি, তিনি কাউকে জন্ম দেননি।” ইহুদী ধর্মে যীশুখ্রীষ্টেরই স্থান নেই, সুতরাং এ কথা বলারও কোন দরকার নেই। ইসলাম ধর্মে যীশুখ্রীষ্টের স্থান আছে, তবে খোদার বার্তাবাহক হিসাবে, তার “পুত্র” হিসাবে নয়।
তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের মধ্যে সবচে বেশি মিল ইহুদী আর ইসলাম ধর্মে। খ্রীষ্টান ধর্ম এদের থেকে তুলনামূলক আলাদা — এতে “সুফী” টাইপ মিসটিক প্রভাব অন্য দুটি অর্থডক্স ধর্মের চাইতে বেশি।
আমার ফীডে নানা ধর্ম, ভাষা আর জাতির সাংস্কৃতিক ব্যাপার প্রতিদিন আসে। আজ এল এই শামা প্রার্থনা। তাই ওপরের চিন্তাগুলি মাথায় খেলে গেল।

This work is licensed under CC BY-NC-SA 4.0
ব্যবহারের সময় এই ক্রেডিটটি সংযুক্ত করুনঃ Copyright © satsagorermajhi.com, ২০২৫



