গত সপ্তাহে মুসলিম বিশ্বে উদযাপিত হল পবিত্র আশুরা। ইসলামী বর্ষপঞ্জীর প্রথম মাসের দশম দিন আশুরা। ইহুদী পঞ্জিকার প্রথম মাসের দশম দিন ইওম কিপ্পুরের সাথে আশুরা পুরোপুরি মিলে যায়। হাদীসেও উল্লেখিত, মদীনায় নবাগত হিজরতকারী মুসলিমরা যখন সেখানকার ইহুদী জনগোষ্ঠীকে “আশুরা” পালন করতে দেখল, তখন মুহাম্মদ(সা) থেকে নির্দেশ ছিল যেন তারা ইহুদিদের মত একদিন রোজা না রেখে দুদিন বা তিন দিন রাখে।
ইহুদী ক্যালেন্ডার সৌর-চান্দ্র মিক্সড আর ইসলামী ক্যালেন্ডার চান্দ্র। কোন কোন বছর হয়, যখন আশুরা আর ইওম কিপ্পুর প্রায় একই দিনে পালিত হয়, বা একদিন আগে পরে।
সুন্নি মুসলিমদের কাছে আশুরার মূল তাৎপর্য শিয়াদের মত কারবালার শোকাবহ ঘটনাবলী নয়। বরং একাধিক নবীর জীবনের গুরুত্ববহ ঘটনাগুলি এই আশুরার দিনেই ঘটে। যদিও কুরআনের নয় — সুন্নাহর সূত্রে। ইন ফ্যাক্ট কুরআনে আশুরার উল্লেখ নেই। তবে মুহাম্মদ(সা) এ দিন পালন করতেন। হাদীসমতে এই দিনে আদম(আ) আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করে পাপমুক্ত হন। নূহনবীর বজরা এসে ভিরে আরারাত পর্বতে। ইউসুফ(আ) হন কারামুক্ত। মুসানবী বনি ইসরাইলদের নিয়ে লোহিত সাগরের মাঝে রাস্তা বানিয়ে মিশর থেকে কানানে এসে পৌঁছান। (খেয়াল করুন ইহুদী বলিনি! ইসরায়েলাইট বা বনি ইসরাইল বলা বেশি যথার্থ! কেন, সেটা বিশাল ইতিহাস!)
সাধারণত সুন্নি ইসলামে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসটি পালিত হয়। ব্যক্তিপরিসরে সুন্নিরা নফল নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, তাওবা করে। যদিও এগুলো সুন্নাহ, মানে অবশ্যপালনীয় নয়, তারপরও ধর্মপ্রাণ মানুষ এসব ইবাদতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। বিশাল উৎসবমুখর শিয়া জনসমাবেশের ব্যাপারটা সুন্নি আশুরার সাথে যায় না। ক্ষমাপ্রার্থনা, বিপৎমু্ক্তি ও শুকরিয়া জ্ঞাপনের দিন হিসাবে মিতাচারীভাবেই উদযাপিত হয়। কোন ক্ষেত্রে কিছু পরিবারকে দেখা যায় বিশেষ খাবার প্রস্তুত করে প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বন্টন করছে, কিংবা মসজিদে দান করছে।

অপরদিকে ইহুদী বছরের প্রথম দিন রোশ হাশানা থেকে শুরু করে দশম দিন ইওম কিপ্পুর পর্যন্ত পুরো সময়টাই পবিত্র। ইওম কিপ্পুরের তাৎপর্য হল এই দিনে মোজেস টেন কমান্ডমেন্টস নিয়ে সিনাই পর্বত থেকে ফিরে আসেন।
ইওম কিপ্পুরও ইহুদী ধর্মের সবচেয়ে বড় প্রায়শ্চিত্তের দিন। এই এক রাতে নাকি খোদা বহু পাপ ক্ষমা করে দেন। আরবী দিনলিপির মত সন্ধ্যায় শুরু হয় প্রার্থনা আর রোজা। টানা ২৫ ঘন্টা উপবাসে থাকতে হয়। মুসলিমদের মতই খাদ্য ও পানীয় সম্পূর্ণ পরিহার করতে হয়।
রোশ হাশানাও বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। মহর্রমের প্রথম দিনে অবশ্য মুসলিমদের এমন কোন ধর্মীয় উৎসব নেই। রোশ হাশানার সন্ধ্যায় মেষের শিংয়ে তৈরি শোফার বাজিয়ে বর্ষবরণ করা হয়। মোমবাতি জ্বলে আনন্দ প্রকাশের জন্য। সিনাগগে বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি আপেল ও মধুসহকারে বিশেষ আহারাদি পরিবেশন করা হয়।
এখন আসুন দেখি, আব্রাহামিক অপর ধর্ম ক্রিশ্চানিটিতে কি অবস্থা!
খ্রীষ্টধর্মে ইওম কিপ্পুরের সাথে ক্যালেন্ডারে মিলার মত দিন নেই। ইওম কিপ্পুর বছরবিভেদে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে পড়ে। তবে আশুরা বছর ঘুরে ঘুরে কোন না কোন সময় প্রায় একই ধাঁচের একটি খ্রীষ্টান উৎসবের আশপাশে পড়তে পারে। সেটি হল ঈস্টার, আর মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু এ পুরো সপ্তাহটিকে বলে হোলি উইক।
ইন্টারেস্টিংলি, মুসলিম আশুরার অন্যতম তাৎপর্য যে মুসা(আ)এর মিশর থেকে কানানে “হিজরত”(!), ঈস্টারও একদিক দিয়ে তার সাথে সম্পর্কিত। কারণ যীশুখ্রীষ্ট ক্রুশবিদ্ধ হবার আগে যে রোববার জেরুজালেমে প্রবেশ করেন, সেদিন ইহুদী পাসওভার উৎসব পালিত হচ্ছিল। পাসওভার মোজেসের লোহিত সাগর পার হবার সেই ঘটনারই স্মারক দিবস!
ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটিতে, আর কিছু হাইচার্চ প্রটেস্টেন্ট বিশ্বাসে— ঈস্টারের পুরো উৎসবটা শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে, গুড ফ্রাইডের চল্লিশ দিন আগে। জেরুজালেমে প্রবেশের আগে যীশু চল্লিশ দিন মরুভূমিতে আত্মানুসন্ধানে উপবাস ও ধ্যানরত ছিলেন, শয়তানের প্ররোচনায় অটল ছিলেন — তারই স্মৃতিতে এমন নিয়ম। উল্লেখ্য, গৌতমবুদ্ধও ঊনপঞ্চাশ দিন বোধি বৃক্ষের নিচে ধ্যানস্থ ছিলেন! মুহাম্মদ(সা)ও হিরা গুহায় অন্তত একমাস ধ্যানস্থ থাকার পর তাঁর নিকট কুরআনের আয়াত নাযিল হতে শুরু করে!
যা হোক, অধিকাংশ “ইভানজেলিকাল” প্রটেস্ট্যান্টরা ক্যাথলিকদের মত এত জাঁক করে ঈস্টার করে না। “লেন্টের” ঐ চল্লিশ দিন ধর্মপ্রাণ মানুষ মূলত ব্যক্তিগত উপাসনা, উপবাস ও অনুদানের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্তসহকারে যীশুখ্রীষ্টের সান্নিধ্যলাভের চেষ্টা করেন। উপবাসের জন্য পানাহার সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হয় না। শুধুমাত্র শেষ রোববার ঈস্টারের দিনটি হবে আনন্দের (“ঈদ”)— কারণ গুড ফ্রাইডেতে ক্রুশবিদ্ধ হবার পর ঐ দিনই যীশু পুনরুজ্জীবন নিয়ে দৈবরূপে ফিরে আসেন।
সুতরাং দেখতে পাচ্ছেন, মুসলিম আশুরা, ইহুদী ইওম কিপ্পুর আর খ্রীষ্টান গুড ফ্রাইডে / ঈস্টার সানডের মধ্যে একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে।
এখন আসি এই লেখার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং অংশে! শিয়া আশুরা বনাম ক্যাথলিক হোলি উইকের তুলনা! কদিন আগে বলা ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটি বনাম শিয়া ইসলামের হিয়েরার্কি আর বংশীয় লেজিটিমেসির মিলের মত।
শিয়া ইসলামে আশুরার মূল তাৎপর্য সুন্নি ইসলামের থেকে অনেক অনেক আলাদা! দিবসটি যতটা না বিপৎমুক্তি কিংবা ধন্যবাদপ্রকাশের, তার থেকে বেশি শোক আর বিলাপের। কেননা, মুহাম্মদ(সা)এর ওফাতের পঞ্চাশ বছরের মধ্যে একটি নয়, দু দুটো গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, আরো একটি আসন্ন। কারবালার যুদ্ধে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে শহীদ হন হুসেইন বিন আলী(রা)— যিনি স্বয়ং নবীজির দৌহিত্র এবং আহলে বাইতের তৃতীয় ইমাম। তাঁর শত্রু খেলাফত তসরুপকারী উমাইয়া পরিবারের মুয়াবিয়া(রা) আর পুত্র ইয়াজিদ।
এই কাহিনী অসামান্য ট্র্যাজিডিতে রূপ পেয়েছে হাজার বছরের শিয়া ঐতিহ্যে। ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যতীত আর কোন সুন্নি ঐতিহ্যে কিন্তু আশুরা শোকের কারবালা দিবস হিসাবে পালিত হয় না— সৌদিতে তেমনটা পালন একেবারে নিষিদ্ধ। ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যতিক্রম হবার কারণ বোধ করি এখানে বড় সংখ্যার শিয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস ও সুফী ঘরানার সিনক্রেটিজম ও ধর্মীয় সহনশীলতা।
এদিকে শিয়ারা যেমন মিথ্যা ও অনাচারের বিরুদ্ধে হুসেইন(রা)এর অকৃত্রিম আত্মোৎসর্গ স্মরণ করেন, ক্যাথলিকরা হোলি উইকের মূল সময়টা একইভাবে যীশুখ্রীষ্টের আত্মদানকে স্মরণ করেন। দুটি চরিত্রই অনেকটাই “ট্র্যাজিক হিরোর” পর্যায়ে। ছবিতে দেখিয়েছি ক্যাথলিক কোন এলাকার রাস্তায় যীশুর চিত্র, আর তুলনার জন্য দিয়েছি ইরানের প্রখ্যাত কাশান শহরের রাস্তার দেয়ালে আঁকা হুসেইন(রা)এর চিত্র। প্রেক্ষাপট জানা না থাকলে অনেকে হয়ত দ্বিতীয় ছবিটি যীশুর বলে ভুল করতে পারেন!

প্রটেস্ট্যান্ট খ্রীষ্টান আর সুন্নি মুসলিমরা যেভাবে প্রাইভেটলি ঈস্টার বা আশুরা উদযাপন করেন, শিয়া মুসলিম আর ক্যাথলিকরা তার বিপরীত। পুরো কয়েক সপ্তাহব্যাপী আপামর জনসাধারণ কমিউনালি উৎসব করে। শুধু যে দল বেঁধে গীর্জা বা মাজারে শরীফে যাওয়া তা নয়, রীতিমত ধর্মীয় রিচুয়াল প্রসেশন তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছবিতে দেখিয়েছি, কিভাবে ক্যাথলিকরা যীশুসহ মাতা মেরী ও যোসেফের মূর্তিসংবলিত কিংবা রেলিকবাহী ফ্লোট “পাসোস”, তার পাশাপাশি আশুরার মিছিলে হুসেইন(রা)এর প্রতীকী শবাধার বহন করে নিয়ে যাবার চিত্র। ফার্সিতে একে বলে নাখল গর্দানি। দুটোই অনেকটা হিন্দু রথযাত্রা উৎসবের মত।

এই প্রসেশন অবশ্যই শোক ও বিলাপের উদ্দেশ্যে। শিয়া মোল্লা এবং ক্যাথলিক বিশপরা ধর্মের নিষেধ দেখিয়ে যতই অনুৎসাহী করুন না কেন, কোন না কোন মিছিলে অত্যুৎসাহী ব্যক্তিদের দেখা যাবেই, যারা নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করছে — শিয়া মিছিলে ধারালো ছররা দিয়ে, আর ক্যাথলিক প্রসেশনে চাবুক মেরে কিংবা শরীরে ক্রুসিফিকশনের মত পেরেক মেরে। ফার্সিতে বলে জাঞ্জিরজানি, ইংরেজীতে সেল্ফ ফ্ল্যাজেলেশন। ইউরোপের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ে এ ব্যাপারটা সচরাচর আর দেখা যায় না। কিন্তু ফিলিপাইনে গেলে সেই প্রাচীন রিচুয়ালের দেখা মেলে। পাশাপাশি ছবি দিয়েছি ফিলিপিনো ক্যাথলিক ও আফগান শিয়া সম্প্রদায়ের। যদি সেল্ফ-হার্ম নাও ঘটে, শিয়া মজলিসে ড্রামের তালে তালে অন্তত বুক ও কপাল জোরে জোর চাপড়ানোর সীন অবশ্যই চোখে পড়বে, একে বলে সিনা-জানি। শিয়া ড্রেস কোড সাধারণত সম্পূর্ণ কালো কাপড় পরিধান।

আরেকটা ব্যাপারে দুই উৎসবে অসম্ভব মিল। সেটা তাজিয়া এবং প্যাশন প্লে। তাজিয়া বলতে আসলে কারবালার ঘটনাবলীর রিএন্যাক্টমেন্ট বোঝানো হয়। মধ্যযুগীয় পোশাকআশাক পরে তাতে অংশগ্রহণকারীরা ঢাল-তলওয়ার নিয়ে নকল যুদ্ধ করে। প্যাশন প্লেতেও রোমান সৈন্যের সাজে একদল মানুষ যীশু খ্রীষ্টের বেশধারী কোন এক অভাগাকে বলপূর্বক ক্রুশবহন করিয়ে নিয়ে যায়। এ ধরনের নাটকে অংশ নিতে পারাটা বিশাল পুণ্যের ব্যাপার। শিয়ারা আরো করে রওজাখানি বা মর্সিয়াখানি— বিলাপসহকারে কারবালার পদ্য সুর করে আবৃত্তি করা। সন্ধ্যায় জ্বলে মোমবাতি।

আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, ঈস্টারের আগ দিয়ে যেমন ক্যাথলিকরা চল্লিশ দিনের ব্রত পালন করে, আশুরাতেও সেরকম চল্লিশ দিন পর শিয়া মুসলিমরা “আরবাঈন” নামে চল্লিশার মত একটি অনুষ্ঠান করে।
দুই ধর্মের এত মিল থাকা সত্ত্বেও এসকল রীতিনীতি যে একে অপর থেকে ধার করা তা নয়। বরং এসকল সংস্কৃতির প্রি-ক্রিশ্চান ও প্রি-ইসলামিক কমন রিচুয়ালেরই অবচেতন স্মৃতি। ক্যাথলিক ধর্ম আসলে প্রাচীন রোম আর বিভিন্ন আঞ্চলিক পেগান বিলিফ সিস্টেমকে ক্রিশ্চিয়ানাইজ করে চালু রেখেছে।

অপরদিকে শিয়া ইসলামে অনেক ব্যাপার আছে যেগুলি তাদের প্রাক্তন জরথুস্ত্রবাদী বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। আশুরার রিচুয়ালের হুসেইন বনাম ইয়াজিদ এ কারণে গুড ভার্সাস ইভেল, লাইট ভার্সাস ডার্কনেস প্রভৃতি জোরোয়াস্ট্রিয়ান বিশ্বাসে নিহিত। হিরো ওয়ারশিপ একটা বড় ব্যাপার— বিশেষ করে যদি নিজের মনের দৃঢ় বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে সেই আত্মদান হয়। ফিরদাউসির শাহনামাতে প্রাচীন ইরানের হিরোদের এমন শহীদী আত্মদান আর তাদের মৃত্যুর পর জনতার পাবলিক শোকপ্রকাশের গল্প লিপিবদ্ধ আছে।
ক্রিশ্চান অনেক সন্ত যেমন পৌত্তলিক রোমসাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নিজ বিশ্বাসে অটল থাকার কারণে কলোসিয়ামে সিংহের খাদ্য হয়েছিলেন, হাসান-হুসেন তেমনি আলীর পার্টি বা “শিয়া” বিশ্বাস, ইমামতি/খেলাফতির ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রকাশে অটল থাকার কারণে কারবালায় শাহাদত পেয়েছেন। নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের চরম আত্মদান তাই শিয়া আশুরার মূল থীম।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, সকল আব্রাহামিক ধর্মেই আশুরার মত সিমিলার একটি উৎসব রয়েছে। আবার আরেকটু গভীরে গেলে তাদের আচারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তাতে একপাশে পড়বে সুন্নি মুসলিম, অধিকাংশ প্রটেস্ট্যান্ট খ্রীষ্টান আর ইহুদীরা। আর আবারো বিপরীতে পড়বে শিয়া মুসলিম এবং অর্থডক্স ও ক্যাথলিক খ্রীষ্টান।

This work is licensed under CC BY-NC-SA 4.0
ব্যবহারের সময় এই ক্রেডিটটি সংযুক্ত করুনঃ Copyright © satsagorermajhi.com, ২০২৫



